বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

দুই বছরেও অধরা কুষ্টিয়া কারাগার ভেঙে পালানো বহু আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ১১:১৫

শেয়ার

দুই বছরেও অধরা কুষ্টিয়া কারাগার ভেঙে পালানো বহু আসামি
ছবি সংগৃহীত

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট সংঘটিত নজিরবিহীন বন্দি পলায়নের ঘটনার প্রায় দুই বছর পূর্ণ হতে চললেও এখনও অধিকাংশ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ওইদিন দুপুরে কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ১০৪ বন্দি পালিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের বড় একটি অংশ এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে জামিনপ্রাপ্ত কয়েকজন বন্দির মুক্তির প্রক্রিয়া চলাকালে প্রধান ফটকের সামনে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে হত্যা মামলার আসামি ও কিশোর গ্যাং লিডার সজিবের নেতৃত্বে ভেতরে থাকা একদল বন্দি সংঘবদ্ধ হয়ে কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন কারারক্ষী আহত হন। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তৎকালীন জেলার আবু মুসা ১০৪ বন্দির পলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তবে বর্তমানে কতজন পুনরায় গ্রেপ্তার হয়েছে এবং কতজন এখনও পলাতক রয়েছে, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেনি।

ঘটনার প্রায় এক মাস পর, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকূপা এলাকা থেকে আলোচিত ২৫ মামলার আসামি সামিরুল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তবে পলায়নের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত সজিবসহ আরও কয়েকজনের অবস্থান এখনও অজানা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলে এ ঘটনায় উদ্বেগ রয়েছে। বিশিষ্ট সংগঠক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও বহু পলাতক আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, পলাতক এসব আসামি সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে নতুন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।



banner close
banner close