বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন সংকটে মোজাম্বিক প্রবাসীরা, সমাধানে জরুরি উদ্যোগের দাবি

বাঁশখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ১০:৪৭

শেয়ার

এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন সংকটে মোজাম্বিক প্রবাসীরা, সমাধানে জরুরি উদ্যোগের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মুজাম্বিক এ বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা এমআরপি পাসপোর্টের নবায়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো প্রবাসী এখন আইনি জটিলতা, ভিসা সংকট এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিশেষ করে এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়াকেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হলে অনেক বাংলাদেশি বৈধ কাগজপত্র হারিয়ে মোজাম্বিকে অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

জানা গেছে, মোজাম্বিকে বর্তমানে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ এখনো এমআরপি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস বা হাইকমিশন না থাকায় প্রবাসীরা কনসুলার সেবার জন্য নির্ভর করেন পর্তুগাল-এ অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওপর।

প্রবাসীদের অভিযোগ, চলতি বছরের গত মাস থেকে পর্তুগালে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা শেষ হওয়ার পথে, তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই ভিসা নবায়ন, ব্যবসা পরিচালনা, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও বৈধ কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজে জটিলতায় পড়ছেন।

মোজাম্বিক প্রবাসী ও সংগঠক এমআর মুজিব আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, 'একজন প্রবাসীকে শুধু পাসপোর্ট করার জন্য বাংলাদেশে যেতে হলে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু দেশে যাওয়ার পরও পাসপোর্ট হবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। অনেকের এনআইডি নেই, আবার অনেকের এনআইডিতে ভুল থাকায় ই-পাসপোর্ট করা সম্ভব হচ্ছে না।' তিনি আরও বলেন, 'এনআইডি সংশোধন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এর মধ্যে অনেকের মোজাম্বিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো ফিরে যেতে না পারলে নতুন করে ভিসা নিতে কয়েক লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।'

প্রবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করায় অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, আবার কারও ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন না থাকায় ই-পাসপোর্ট আবেদন জটিল হয়ে পড়ছে। ফলে এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন বন্ধ হওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রবাসীদের ওপর। এদিকে ছোট ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী প্রবাসীদের জন্য দেশে গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কেউ ব্যবসা বন্ধ রেখে যেতে পারছেন না, আবার কেউ চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দেশে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

মোজাম্বিক বাংলাদেশ কমিউনিটির আহ্বায়ক মো. আনিছুর রহমান আমাদের প্রতিবেদক কে বলেন, 'মোজাম্বিকে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি বৈধ কাগজপত্রের জটিলতায় ভুগছেন। এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের সংকট আরও বেড়েছে। আমরা চাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুক।' তিনি আরও বলেন, 'মোজাম্বিকে অস্থায়ী কনসুলার সেবা চালু করা অথবা বিশেষ টিম পাঠিয়ে এমআরপি পাসপোর্টধারীদের ই-পাসপোর্টে রূপান্তরের ব্যবস্থা করা গেলে হাজারো প্রবাসী উপকৃত হবেন। এতে তারা বৈধভাবে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা পরিচালনা অব্যাহত রাখতে পারবেন।'

প্রবাসীদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হলো–পাসপোর্ট নবায়ন বন্ধ থাকায় অনেকের পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ একসঙ্গে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা আইনি জটিলতার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন। কেউ ট্রাভেল পারমিট নিয়ে দেশে ফিরলে পুনরায় মোজাম্বিকে আসতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তাদের দাবি, অন্তত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এমআরপি পাসপোর্ট নবায়নের সময়সীমা বৃদ্ধি করা অথবা মোজাম্বিকে বিশেষ কনসুলার ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রবাসীদের এই সংকট দ্রুত সমাধানে Ministry of Foreign Affairs of Bangladesh ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ হাইকমিশনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন প্রবাসীদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও সুরক্ষিত থাকবে।



banner close
banner close