বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিমিষেই নিভে গেলো ফারিহা'র রহস্যজনক মৃত্যুতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৬ ২৩:১০

শেয়ার

ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিমিষেই নিভে গেলো ফারিহা'র রহস্যজনক মৃত্যুতে
ছবি: সংগৃহীত

সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার (২৩) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিয়াপট্টি মুন্সেফবাড়ি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামীয় বাড়ির ২/এ, ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের স্কুল শিক্ষক মো. হানিফ মিয়ার বড় মেয়ে ফারিহার। বিয়ের পর হৃদয় স্কলারশিপ নিয়ে চীন গেলেও সফল হতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই বেকারত্ব এবং সাংসারিক ভরণপোষণ নিয়ে তাঁদের মধ্যে চরম দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। গত সোমবার ফারিহা বাবার বাড়ি থেকে কুমিল্লায় স্বামীর বাসায় আসেন। এর একদিন পরই তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

নিহতের বাবা, নাঙ্গলকোট স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আক্ষেপ করে বলেন, "আমার মেয়েটাকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করত হৃদয়। সে আমার মেয়েকে মেরে জেল খাটার হুমকিও দিয়েছিল আগে। ফারিহার খুব ইচ্ছা ছিল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার, কিন্তু পাষণ্ড স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে তার সেই স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে গেল।" তিনি ফারিহাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফারিহা বর্তমানে ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে পড়ছিলেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সিসিএন পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের বলেন, "ফারিহা ছিল আমাদের অন্যতম মেধাবী ছাত্রী। তাঁর এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।



banner close
banner close