সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ এবং তার দুই সহপাঠীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সজীবকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২।
গত ২১ এপ্রিল দুপুরে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সজীব (২৫) তিন স্কুলছাত্রীকে আম দেওয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে কেউ না থাকায় সুযোগ বুঝে তিনি শিশুদের একটি ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে তাদের হাত-পা বেঁধে বিবস্ত্র করে যৌন নিপীড়ন করেন। একপর্যায়ে অন্য দুই শিশুকে মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে তিনি একজনকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর সজীব শিশুদের মুখ বন্ধ রাখতে ৩০০ টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। শিশুরা টাকা না নিয়ে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে বিস্তারিত জানায়।
ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে শাহজাদপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সালিশ পণ্ড করে দেয়। ওই রাতেই ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর সজীব পলাতক ছিলেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১২ সজীবকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার ৬ মে তাকে শাহজাদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চাঞ্চল্যকর এ মামলার প্রধান আসামিকে র্যাব কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। বুধবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুদের জবানবন্দি রেকর্ডসহ মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সজীব শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া গ্রামের হাফেজ আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তার বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:

.jpg)




.jpg)

