সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে ২২ জন জেলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ দেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ১৭ জন এখনো জিম্মি রয়েছেন।
জানা গেছে, গত রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়। অভিযুক্ত জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীর সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অপহৃত জেলেরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ ঘটনার পর সুন্দরবনসংলগ্ন হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি ও মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহৃতদের পরিবার, স্থানীয় মহাজন ও ফিরে আসা জেলেরা জানান, চার থেকে পাঁচ দিন আগে কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে তারা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান। পরে কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন বিভিন্ন খালে ছড়িয়ে মাছ ধরার সময় দস্যুরা তাদের ধরে নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বজনরা জানান, এখনো পর্যন্ত অপহরণকারীরা মুক্তিপণের নির্দিষ্ট অঙ্ক জানায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, নেটওয়ার্ক এলাকায় ফিরেই তারা যোগাযোগ করতে পারে। প্রিয়জনদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারগুলোর।
মুক্তি পাওয়া জেলেরা জানিয়েছেন, দস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের তুলে নিচ্ছে এবং নির্মমভাবে মারধর করছে। ফলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে চরম ভীতি বিরাজ করছে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, ঘটনাটি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুতই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:




.jpg)



