বুধবার

৬ মে, ২০২৬ ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

পিরোজপুরে বিদ্যালয় যাওয়ার পথে প্রধান শিক্ষকের সমানে স্কুল ছাত্রী যুবলীগ নেতার স্ত্রীর হাতে জুতা পেটা ও মারধরের শিকার

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৬ ১২:৪৬

শেয়ার

পিরোজপুরে বিদ্যালয় যাওয়ার পথে প্রধান শিক্ষকের সমানে স্কুল ছাত্রী যুবলীগ নেতার স্ত্রীর হাতে জুতা পেটা ও মারধরের শিকার
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরে বিদ্যালয় যাওয়ার পথে প্রধান শিক্ষকের সমানে নুসরাত জাহান নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার স্ত্রীর হাতে জুতা পেটা ও মারধরের শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের দরিচর গাজীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নুসরাত একই গ্রামের মো: নাসির উদ্দীন খান এর মেয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের ১-নং দরিচর গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত এবং একই গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ যুবলীগের সভাপতি সবুজ খান এর স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা কিছুদিন আগে সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর সহায়তার কিছু টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন। এসময় ওই স্কুল শিক্ষার্থীর বড়ো বোন বাঁধা দিলে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে সম্প্রতি স্কুল ছাত্রীর বাড়ির সামনে বসে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানা স্কুল ছাত্রী নুসরাতসহ তার পরিবারকে হুমকি প্রদান করেন। এই ভয়ে ওই স্কুল ছাত্রী প্রায় ১০ দিন স্কুলে আসেনি। নুসরাত এতদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় প্রধান শিক্ষক নুসরাতের অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তার নিজ জিম্মায় মঙ্গলবার স্কুলে নিয়ে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে।

নুসরাত এর মা গোলাপি বেগম বলেন, ৩-৪ দিন আগে আমার স্বামীকে ঝাড়ু দিয়ে পেটানোর চেষ্টা করতেছিল। আমার মেয়ে জাকিয়ার ভয়ে অনেকদিন স্কুলে আসে না। আজকে শিক্ষক নিজে গিয়ে আমার মেয়েকে স্কুলে নিয়ে আসছিল তখন মেয়েকে জুতা দিয়ে পিটিয়েছে এবং মারধর করেছে। এর বিচার চাই।

স্থানীয় ফারুক শেখ, হিরন শেখ ও মেহেদী হাসান বাবু বলেন, এই যুবলীগ নেতা সবুজ ও তার স্ত্রী জাকিয়ার বিভিন্ন অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। ওদের ঘরে অস্ত্র আছে, সেই অস্ত্র দিয়ে মানুষকে ভয় দেখায়। এই ছাত্রীর পরিবারটিও ওদের হাতে নির্যাতনের শিকার। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার আমরা বিচার চাই, তা না হলে আমরাও আমাদের ছেলে-মেয়েকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য স্কুলে পাঠাবো না।

দরিচর গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফয়সাল বলেন, মেয়েটি মারধরের হুমকি পেয়ে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল। এ জন্য আমি গতকাল ওর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি থেকে এগিয়ে নিয়ে আসছিলাম, স্কুলের সামনে জখন আসি তখন ওই মহিলা ছাত্রী নুসরাতকে জুতা দিয়ে মারধর করে তখন আমি বাঁধা দিলে আমার গায়েও লাগে। এই লজ্জাজনক ঘটনার আইনের মাধ্যমে বিচার দাবী করছি।

পূর্বের বিরোধের কারণে নুসরাতের ওপরে জুতা পেটার দায় স্বীকার করেছে অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানা ও তার স্বামী সবুজ খান। তারা বলেন, আমার ছেলেকে ও মারতে চাইছিল তাই আমিও মারছি। তবে জুতা দিয়ে পেটানোর কথা অস্বীকার করেছেন জাকিয়া। যুবলীগ নেতা সবুজ খানকে এক প্রশ্নে তাদের নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

জিয়ানগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মহব্বত খান আজ বুধবার সকালে এই প্রতিবেদককে জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্বেও এ ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়েছে পরিবারটি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থী নুসরাতসহ সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close