বুধবার

৬ মে, ২০২৬ ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

রংপুরে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৬ ১২:১১

শেয়ার

রংপুরে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি
ছবি সংগৃহীত

রংপুরে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা এবং নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। বুধবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি, বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানো, লাইসেন্সধারী সব বিড়ি কারখানার জন্য ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমনির্ভর শিল্প, যার ওপর নির্ভর করে সারাদেশে প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির প্রভাবের কারণে এ শিল্প সংকটে পড়েছে। ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং শ্রমিকরা কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তামাক বাজারের বড় একটি অংশ নিম্নস্তরের সিগারেট দখল করে আছে। এতে বিড়ি শিল্প টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রিকে শিল্পের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থায় নকল বিড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাবলুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেন, সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা।

এ সময় শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে দেশীয় শিল্প রক্ষা, বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close