বুধবার

৬ মে, ২০২৬ ২৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

পাঁচ দিনে ২ হাজার ৬২২ জন গ্রেপ্তার, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অধরা-চলছে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ মে, ২০২৬ ১০:১২

শেয়ার

পাঁচ দিনে ২ হাজার ৬২২ জন গ্রেপ্তার, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অধরা-চলছে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান
ছবি এআই মাধ্যমে বানানো

দেশজুড়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের প্রথম পাঁচ দিনে মোট ২ হাজার ৬২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এ সময়ের মধ্যে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বড় অংশ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

১ মে থেকে সরকারের নির্দেশে সারাদেশে শুরু হওয়া এই বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চলছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর প্রথম পাঁচ দিনে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

প্রথম দিনেই সারাদেশে ৩৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে মাদক ও চোরাকারবারি, ছিনতাই ও ডাকাত দলের সদস্য এবং চাঁদাবাজরা রয়েছে। দ্বিতীয় দিন গ্রেপ্তার করা হয় ২৪৪ জনকে এবং কিছু আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তৃতীয় দিনে অভিযান সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করে, সেদিন এক হাজার ৪৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে বড় অংশই মাদক ও বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি।

চতুর্থ দিনে গ্রেপ্তার হয় ৭৬২ জন এবং পঞ্চম দিনে গ্রেপ্তার করা হয় ১ হাজার ৯৭৪ জনকে। এই পাঁচ দিনে মোট উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে পিস্তল, শুটারগান ও এলজি রয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ইয়াবা ও হেরোইন উল্লেখযোগ্য।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক তালিকা অনুযায়ী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। শুধুমাত্র রাজধানীতে ৪৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকায় চাঁদাবাজদের নতুন তালিকা তৈরি করে তাদের পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—পরিবহন, ফুটপাত, এলাকাভিত্তিক বাজার, অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ এবং অটোরিকশা ও টেম্পোস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক চাঁদাবাজ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্য, সোর্স ও প্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, লালবাগ বিভাগের ছয়টি থানায় মোট ৭৫ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজ রয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

তবে পুলিশের এই অভিযান সত্ত্বেও শীর্ষ ও চিহ্নিত দাগি সন্ত্রাসীদের বড় অংশ এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে স্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদেরও অনেকে এখনো পলাতক রয়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩০ এপ্রিলের পর থেকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি মব সহিংসতায় জড়িতদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি দমনে নিয়মিত চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান একযোগে চলমান রয়েছে। তার মতে, এসব অপরাধ দেশের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, কেবল নিম্নপর্যায়ের অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে অপরাধ দমন সম্ভব নয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের ছায়া সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এই অভিযানের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।



আরও পড়ুন:

banner close
banner close