গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রায় ৬২ কোটি টাকার এফডিআর একদিনে একযোগে ভেঙে পে-অর্ডারের মাধ্যমে নিজের জিম্মায় রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ১৬ এপ্রিল ১৪টি ব্যাংকে চিঠি দিয়ে এ অর্থ উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর জেলা পরিষদের নামে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে ৬২ কোটিরও বেশি টাকার এফডিআর জমা ছিল, যার সুদ থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহ করা হতো। তবে নির্ধারিত মেয়াদ পূরণের আগে এফডিআর ভেঙে ফেললে মুনাফা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ অবস্থায় কোনো ধরনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই একযোগে এফডিআর ভাঙানোকে নীতিবহির্ভূত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পৃথক চিঠির মাধ্যমে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক জয়দেবপুর চৌরাস্তা শাখা, জনতা ব্যাংক গাজীপুর শাখা, আইএফআইসি ব্যাংক বোর্ডবাজার শাখা, এনআরবি ব্যাংক মাওনা শাখা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ মোট ১৪টি ব্যাংককে এফডিআর ভেঙে সুদসহ অর্থ জেলা পরিষদের অনুকূলে পে-অর্ডারের মাধ্যমে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো তা কার্যকর করে এবং অর্থ ছাড় করে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা পরিষদের এফডিআর ভাঙতে হলে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে জেলা পরিষদের নামে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা বা বিদ্যমান হিসাব পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায় বহন করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ আছে।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কম সুদ পাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে তুলনামূলক নিরাপদ ব্যাংকে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসকের জ্ঞাতসারেই এটি করা হয়েছে এবং অর্থ জেলা পরিষদের হিসাবেই জমা করা হবে।
তবে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী এ দাবি নাকচ করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগের হওয়ায় দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর বর্তাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই এফডিআর ভাঙার সুযোগ নেই। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার পূর্ব থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে এবং তা লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ পে-অর্ডার আকারে ব্যক্তিগত জিম্মায় রাখা আইনসঙ্গত নয় এবং এতে অর্থের নিরাপত্তা ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগাম ভাঙানোর কারণে সম্ভাব্য সুদের ক্ষতিও হয়েছে।
আরও পড়ুন:








