টাঙ্গাইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাফিউল করিমকে বাসাইল থানায় বদলি করা হলেও তিনি এখন পর্যন্ত সেখানে যোগদান করেননি। উল্টো প্রভাব খাটিয়ে বদলি ঠেকাতে তদবীর করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২০ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারের স্বাক্ষরিত ১৪৪১/১(৬)/আরও) বদলির আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাফিউল করিমকে বদলি করা হল। তাকে আগামী ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র প্রদান পূর্বক অত্রাফিসকে অবহিত করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সদর থানায় কর্মরত সেকেন্ড অফিসার এসআই রাফিউল করিম ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তিনি আধিপত্য বিস্তার করেছেন। সম্প্রতি তিনি ফোনে মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার আসামী রায়হান আহমেদ লিজনকে হুমকি দিয়েছেন। তার হুমকি দেয়ার অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে এসআই রাফিউল লিজনকে বলছেন, ৭ই মার্চ তোমার কানে বাতাস যাবে, বাকিটা আমি দেখছি। বাতাসের বেকটা কেমন একটু আন্দাজ কইরো। আমি মানুষকে বইলা করি। এরআগে লিজনের গ্রামের বাড়ি কালিহাতীর বল্লার সিংগাইর এলাকায় রাতে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল ও লিজন ধরতে যায় রাফিউলের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা। এসময় বাড়িতে লিজনকে না পেয়ে তার কেনা টাঙ্গাইল-ল ১২-৮৮২৬ মোটরসাইকেলটি নিয়ে আসে পুলিশ। ওই মোটরসাইকেলটি লিজন টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাপপু এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ঘাটাইলের দড়ি চৈহট্ট এলাকার লিটন মিয়ার কাছ থেকে কিনেন। পরে এই ঘটনায় লিজন একটি সাংবাদিক সম্মেলন করায় ক্ষিপ্ত হয় এসআই রাফিউল।
অভিযোগ আছে, গেল ৪মাস আগে টাঙ্গাইল শহরের একজন হোটেল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাবেক আওয়ামী লীগের একজন এমপিকে ফুল দিচ্ছে এমন ছবি দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন।
লিজন জানায়, রাতে বাড়িতে গিয়ে আমাকে না পেয়ে কেনা মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে। মোটরসাইকেলের সমস্ত কাগজ-পত্র দেখানো হলেও সেই মোটরসাইকেল কোর্টে প্রেরণ করেছে। এরআগে এক লাখ টাকা দাবী করেছে। পরে বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদেও অবহিত করি। আগেও আমার নামে মিথ্যা ছিনতাই মামলা করা হয়েছে কয়েকটা। অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, অন্যত্র বদলি হলেও উর্ধ্বতনদের বদলতেই তিনি বহাল তবিয়তেই রয়েছেন থানায়। তিনি থানার সেকেন্ড অফিসার। পুরো থানা তার কথায় চলে।
অভিযুক্ত টাঙ্গাইল সদও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাফিউল করিম বলেন, বদলি করা হয়েছে ঠিক। তবে কেন অন্য থানায় যাচ্ছি না সেটা ওসি এবং এসপি স্যার জানেন। আর চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারে আসামীর সাথে কিভাবে কথা বলে তথ্য বের করবো সেটাতো আমি জানি। তবে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, তার বদলি হয়েছে সে কবে যাবে না যাবে এটা পুলিশের অভ্যন্তরিন বিষয়। এটা নিয়ে আপনার জানারতো প্রয়োজন নেই।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডমিন) রবিউল ইসলাম বলেন, বদলির বিষয়টি পুলিশের অভ্যন্তরিন। এটাতো আপনার জানার কথা না।
আরও পড়ুন:








