ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরি প্রজেক্ট এলাকায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম পরীক্ষামূলক বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। ২০০৬ সালে চালু হওয়া ০.৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে কেন্দ্রের প্রায় ১০ একর জমি দখল করে মাছ চাষ চলছে এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ডেনিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ডিএএনআইডিএ)-এর অর্থায়নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। চারটি টারবাইনের মাধ্যমে ২২৫ কিলোওয়াট করে মোট ০.৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে বাতাসের গতি কমসহ বিভিন্ন কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২১ সালের শুরু থেকে কেন্দ্রটি পুরোপুরি অচল রয়েছে।
কেন্দ্রটির সীমানা প্রাচীর না থাকায় এটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় প্রকল্পের জমি দখল করে পুকুর খনন ও মাছের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর দখলদারদের হাতবদল হলেও জমি এখনো উদ্ধার হয়নি। ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে একটি চক্র সেখানে দখলদারি অব্যাহত রেখেছে।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় কেন্দ্রটির জেনারেটর, কন্ট্রোল প্যানেল ও সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার অভাবে নিয়মিতভাবে বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে।
ফেনী পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার বলেন, প্রকল্পটি মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। অতীতে একবার মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। এ বিষয়ে হেড অফিস থেকে নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু জানান, প্রয়াত সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের প্রচেষ্টায় স্থাপিত এই প্রকল্পটি অব্যবস্থাপনার কারণে অচল হয়ে পড়ে আছে। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে প্রকল্পটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে এমন একটি প্রকল্প অচল থাকা দুঃখজনক। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এটি পুনরায় সচল করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
আরও পড়ুন:








