মঙ্গলবার

৫ মে, ২০২৬ ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

চাঁদপুর পৌরসভায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশিত: ৫ মে, ২০২৬ ০৭:০০

আপডেট: ৫ মে, ২০২৬ ০৭:২১

শেয়ার

চাঁদপুর পৌরসভায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি
ছবি সংগৃহীত

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চাঁদপুর পৌরসভায় তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন জমা দিতে গিয়ে সাংবাদিক মুসাদ্দেক আল আকিবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পৌর প্রশাসকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন জমা দিতে পৌর প্রশাসকের কক্ষে যান সাংবাদিক মুসাদ্দেক আল আকিব। তিনি জানান, আবেদনটি পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন গ্রহণ করেন এবং কিছু সময় পর আলাপচারিতা শুরু হয়।

পরে, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাওন পাটোয়ারী কক্ষে প্রবেশ করে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১০-১২ জন বহিরাগত ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন বলে তিনি দাবি করেন। এতে তার কানের, চোয়াল ও মাথায় আঘাত লাগে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়, যাতে কোনো তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা না যায়। পরে তাকে কক্ষ থেকে টেনে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর তিনি নিরাপত্তার কারণে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে না গিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় চিকিৎসা শেষে জানা যায়, তার বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে এবং তিনি বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন।

সাংবাদিক মুসাদ্দেক আল আকিব অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি একটি সংগঠনের নামে ভুয়া বিবৃতি স্থানীয় গণমাধ্যমে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তা প্রকাশিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগকারী পরবর্তীতে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিচার দাবি করেছেন। বিষয়টি চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



banner close
banner close