পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজে চলমান অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আলাদা কক্ষে তদারকি ছাড়াই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দেয়ার ঘটনায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার দুপুর ২ টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীরা কলেজে উপস্থিত হয়ে একটি কমনরুমে কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ছাড়াই আলাদাভাবে পরীক্ষা চলতে দেখেন।
এ সময় দায়িত্বরত অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক কাজী নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি দাবি করেন, আটজন শিক্ষার্থী শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তারি সনদ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে আলাদা কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
তবে পরীক্ষার সময় কোনো শিক্ষক উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম।”
গণমাধ্যমকর্মীরা পরীক্ষার্থীদের মেডিকেল সনদ যাচাই করতে চাইলে দেখা যায়, আটজনের মধ্যে মাত্র তিনজনের সনদ যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের সনদে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এমনকি একজন পরীক্ষার্থীর আবেদনপত্রে তার নিজের স্বাক্ষরও অনুপস্থিত ছিল, তবুও তাকে বিশেষ সুবিধায় পরীক্ষায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করেন, প্রতি বছরই এখানে অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়। এটি নতুন কিছু নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি চর্চা।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়ক কাজী নুরুল ইসলাম। তিনিই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে যেহেতু বিষয়টি এখন জেনেছি, আমি অবশ্যই খতিয়ে দেখব।”
বিশেষ সুবিধা নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—জামিল হাসান (রোল: ২৪৪১৫৩১), রিমা আক্তার (২৪৪১৪২৭), আবু বক্কর ছিদ্দিক (২৪৪০৮৬৯), সামিমা কবির রিয়া (২৪৪০৯১৭), সানজিদা আক্তার মীম (২৪৪১৬৭১), মরিয়ম আক্তার (২৪৪০৯৭৫) এবং শেখ গোলাম রাব্বি (২৪৪১৩৬১)।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. ইশতিয়াক জানান, “তিনটি সনদের মধ্যে দুটি আমার স্বাক্ষরিত, একটি নয়। আমি পরীক্ষার জন্য কোনো বিশেষ সনদ দেইনি, শুধু জ্বরের বিষয়টি উল্লেখ করেছি। বাকি বিষয় কলেজ কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, “কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে আলাদা পরীক্ষা দিতে চাইলে কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিভিল সার্জনের অধীনে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে হয়। সেই বোর্ডের অনুমোদিত সনদ ছাড়া আলাদা পরীক্ষা দেয়ার কোনো বিধান নেই। ব্যক্তিগত চেম্বারের সনদে এ ধরনের সুবিধা দেয়ার নিয়ম নেই।”
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








