অটোরিকশা থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কুমিল্লা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার কুমিল্লা জেলা পরিষদের অধীনে থাকা এই স্ট্যান্ডে দৈনিক ১৫ টাকা চাঁদার (জিবি) পরিবর্তে হঠাৎ ১৫০ টাকা আদায়ের ঘোষণা দেয় ইজারাদারের লোকজন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুমিল্লা-বুড়িচং রুটের নিয়মিত সিএনজি চালকরা। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে তারা বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজারে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরবর্তীতে কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে চালকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত
চাঁদা আদায়ের এই অরাজকতা বন্ধে কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। তদন্তে শাসনগাছা স্ট্যান্ডে চাঁদা তোলার সাথে উপজেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমের অনুসারীদের সম্পৃক্ততা পাওয়ার দাবি করে পুলিশ। এর প্রেক্ষিতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি দাবি এদিকে রেজাউল কাইয়ুমের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মুক্তি দাবিতে শহর জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলীয় নেতা-কর্মীরা। সমর্থকদের দাবি, রেজাউল কাইয়ুমকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাসনগাছা স্ট্যান্ডের কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সাথে তার বা তার কর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তারা দাবি করেন।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা শহর ও বাস স্ট্যান্ড এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








