রবিবার

৩ মে, ২০২৬ ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩

পোড়া মবিল থেকে বিকল্প জ্বালানি, কুষ্টিয়ায় আলোচনায় উদ্ভাবক মনিরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ মে, ২০২৬ ১৭:১০

শেয়ার

পোড়া মবিল থেকে বিকল্প জ্বালানি, কুষ্টিয়ায় আলোচনায় উদ্ভাবক মনিরুল
ছবি সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জ্বালানি সংকটের মধ্যে মনিরুল ইসলাম নামের এক উদ্ভাবক পোড়া মবিল থেকে বিকল্প জ্বালানি তৈরির দাবি করে সেচ কার্যক্রম চালু করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই জ্বালানি ব্যবহার করে কৃষকেরা সেচ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ডিজেলের সংকট ও উচ্চমূল্যের প্রেক্ষাপটে কম খরচে সেচ চালানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মনিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করছেন। ২০০৭ সালে গবেষণা শুরু করে পরবর্তীতে শিক্ষকতা ছেড়ে এ বিষয়ে মনোযোগ দেন তিনি। চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কয়েক মাস আগে তিনি বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারিক প্রয়োগে সফল হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার উদ্ভাবিত মিশ্রণটির নাম দেওয়া হয়েছে মেথড অব অলটারনেটিভ ডিজেল, সংক্ষেপে ম্যাড। পোড়া মবিলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ বুস্টার মিশিয়ে এই জ্বালানি তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক সোলাইমান শেখ জানান, সম্প্রতি ডিজেলের অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। ধান ও পাট চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানি সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় মনিরুল ইসলামের পরামর্শে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার শুরু করলে সেচ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়। তিনি বলেন, এতে খরচ কমেছে এবং জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া যাচ্ছে।

আরেক কৃষক জয়নাল আলী বলেন, মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল না পাওয়ায় সেচে সমস্যা হচ্ছিল। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এখন আর সেই সমস্যা নেই এবং কৃষিকাজ স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ফার্ম মেশিনারি বিভাগের ইন্সট্রাক্টর জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পোড়া মবিলভিত্তিক জ্বালানি সাশ্রয়ী হলেও যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন জানান, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, ডিজেল সংকটের কারণে কৃষকেরা সেচ নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগটি সম্ভাবনাময়। তবে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নে কৃষি বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের সময়ে এ ধরনের উদ্ভাবন কৃষি খাতে সম্ভাবনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া জরুরি।



banner close
banner close