পিরোজপুরের নেছারাবাদে ২০১৮ সালে মোটরসাইকেল চালক মিলন বাহাদুরকে হত্যার পর তার মরদেহ সেফটিক ট্যাংকে গুমের ঘটনায় আদালত প্রধান আসামি মো. তাজিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তার মা মোসা. রেহানা বেগমকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পিরোজপুর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় হত্যার পরিকল্পনা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তবে অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নেছারাবাদের বয়ারহুলা মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড থেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন চালক মিলন বাহাদুর। তাকে নিয়ে যায় মো. তাজিম ও তার এক সহযোগী। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি এবং পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি তার বাবা শাহাদাত বাহাদুর নেছারাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
তদন্তের অগ্রগতিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি তাজিমের বাড়ির ল্যাট্রিনের সেফটিক ট্যাংক থেকে মিলনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যার পর মরদেহ গুমে তাজিমের মা রেহানা বেগম সহায়তা করেন।
ঘটনার পর নিহতের বাবা পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালত দুইজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত তাজিমকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং রেহানা বেগমকে মরদেহ গুমের দায়ে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন:








