বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

সর্বশেষ
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক; ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি ভয়াল ২৮ অক্টোবর; আ. লীগের দায়ীদের বিচার কি হবে? ২৮ অক্টোবরে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে গাজীপুরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে: ইসি সচিব পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবি: রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ সিরাজগঞ্জে দরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ: প্রকৌশলী সাফিউলের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে পুলিশের গাড়ির সামনেই নিষিদ্ধ যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

অসময়ে ভাঙন, টানা বৃষ্টিতে আতঙ্কে যমুনা পাড়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪৭

আপডেট: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৪৮

শেয়ার

অসময়ে ভাঙন, টানা বৃষ্টিতে আতঙ্কে যমুনা পাড়ের মানুষ
ছবি বাংলা এডিশন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নে বর্ষা শুরুর আগেই যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার মধ্যে ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এতে ধীতপুর, কুরশি ও শ্রীপুর গ্রামের শত শত মানুষ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ মিটার দূরত্বে রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্র, গরুর হাটসহ ধীতপুর-কুরশি হাট এবং তিনটি গ্রামের অসংখ্য বসতবাড়ি। এছাড়া কুরশি হাটে প্রায় ৬০টির বেশি দোকান রয়েছে, যা যেকোনো সময় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গত তিন বছরে দফায় দফায় ভাঙনে এই ইউনিয়নের তিনটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা, বহু বসতঘর ও কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। তবুও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ধীতপুর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মোল্লা ও আবুল বেপারী বলেন, হঠাৎ করে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এভাবে চলতে থাকলে তারা পরিবার নিয়ে পথে বসবেন। তাদের অভিযোগ, এখনো কোনো সরকারি কর্মকর্তা সরেজমিনে এসে খোঁজখবর নেননি।

কুরশি গ্রামের সুজাবত মোল্লা ও ইয়াসিন মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করলেও বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। যে কোনো সময় তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সোনাতনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মো. এ এম সাইদুর রহমান বলেন, তার ৩০ বিঘা জমির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ইতোমধ্যে ভাঙনে হারিয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, কুরশি হাটের ব্যবসায়ী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির স্থানীয় নেতা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, তিন মাস আগে তিনি নিজে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে সবসময় পানি থাকায় কাজ করা কঠিন। তবুও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।



আরও পড়ুন: