বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঝালকাঠিতে খাল খননে ধসে পড়ল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৫১

শেয়ার

ঝালকাঠিতে খাল খননে ধসে পড়ল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক
ছবি বাংলা এডিশন

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার তুলাতলা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিচঢালা সড়কে ধস নেমেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ঘেঁষা সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে আসা মানুষ এবং জরুরি সেবার যানবাহন বিঘ্ন ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। গত ২২ মার্চ এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজ শুরু করলে তুলাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খননের সময় কোনো ধরনের সঠিক কারিগরি পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খালের উত্তর পাশ খাড়া রেখে মাটি সরিয়ে ফেলা হলেও দক্ষিণ পাশে ঢাল রেখে খনন করা হয়েছে, যা ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল খান বলেন, আমরা নিষেধ করলেও ভেকু চালক আমাদের কথা শোনেননি। তার মনগড়া খননের কারণে এখন আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা শাওন বলেন, আমার সামনেই রাস্তার পাশ খাড়া করে কাটা হয়েছে। সতর্ক করার পরও তারা শোনেনি, এখন রাস্তা ভেঙে পড়েছে।

তবে ভেকু মেশিনের মালিক ও মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক দাবি করেন, “প্রথমে সামান্য ফাটল ছিল। পরে এসে দেখি বড় ধস হয়েছে। আমার ধারণা, এতে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকতে পারে।”

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খাল খননের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খনন শেষ হলে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, খাল খননে সংশ্লিষ্টদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তুলাতলা এলাকার খননকাজও এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা সংস্কার নয়—স্থায়ী ও টেকসই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা রয়েছে।



banner close
banner close