বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

এনজিও ঋণে বিদেশযাত্রা; জামিনদারের কাঁধে ঋণের বোঝা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০১

শেয়ার

এনজিও ঋণে বিদেশযাত্রা; জামিনদারের কাঁধে ঋণের বোঝা
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আপন চাচাতো বোন এনজিও থেকে উত্তোলিত ঋণের টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পর তা পরিশোধ না করায় পুরো দায়ভার এসে পড়ে আফরোজা বেগমসহ অপর এক জামিনদারের ওপর। পরে বাধ্য হয়ে তারা ওই ঋণ পরিশোধ করেন। তবে পরিশোধের পরও পাওনা অর্থ ফেরত না দেয়ার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

ভুক্তভোগী নারী উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দ্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. উমর আলীর স্ত্রী মোছাঃ আফরুজা বেগম (৪৫)। তিনি জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- একই গ্রামের মোঃ খলিলের ছেলে মোঃ রেজাউল মন্ডল (৫০), মোঃ বক্তার আলীর ছেলে মোঃ ফিরোজ মিয়া (২২) এবং মোঃ রেজাউল মন্ডলের স্ত্রী মোছাঃ বেহুলা বেগম (৪৫)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আফরোজা বেগম ও তার চাচাতো বোন বেহুলা বেগম একসঙ্গে ঢাজায় একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় বেহুলা বেগমের বিদেশে যাওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে আফরুজা বেগম ও তার পরিচিত শাহিনা বেগমকে জামিনদার রেখে আশুলিয়ার একটি এনজিও থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে বেহুলা বেগম আফরুজা বেগমের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং শাহিনা বেগমের কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা নেওয়ার পর বেহুলা বেগম সৌদি আরবে চলে যান। এরপর অপর দুই অভিযুক্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধে গড়িমসি করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যান। ফলে জামিনদার হওয়ায় এনজিও কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে আফরুজা বেগম ও শাহিনা বেগম পুরো ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন।

ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি বেহুলা বেগম দেশে ফিরেছেন এমন তথ্য পেয়ে গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে তারা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা টাকা দাবি করলে তারা টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানিয়ে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

এ ঘটনায় আফরুজা বেগম সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পাওনা টাকা উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, 'এ ঘটনার ফলে জামিনদারসহ কয়েকজন গার্মেন্টস কর্মী নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাদের কর্মস্থলে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই নির্ধারিত ডিউটিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোছা. বেহুলা বেগম ও তার স্বামী মো. রেজাউল মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, 'এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



banner close
banner close