বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে ৪২ কোটির বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন শূন্য, নিজেই ব্যবহার করছে বিদ্যুৎ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:৪৫

শেয়ার

সিরাজগঞ্জে ৪২ কোটির বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন শূন্য, নিজেই ব্যবহার করছে বিদ্যুৎ
ছবি বাংলা এডিশন

সিরাজগঞ্জ শহরের মালশাপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে ক্রসবার-৩ (চায়না বাঁধ-৩) স্থানে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া ২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি আট বছর পরও উৎপাদনে যায়নি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তত্ত্বাবধানে প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেডের বাস্তবায়িত ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প থেকে এখনো এক ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, আটটি টাওয়ারের পাখা ঘুরছে না এবং প্রকল্পটি নিজেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল ৮টি টারবাইনের মাধ্যমে ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর টাওয়ার স্থাপন করা হলেও পরবর্তী কাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে প্রকল্পটি এখনো বিপিডিবির কাছে পুরোপুরি হস্তান্তর করা হয়নি।

সিরাজগঞ্জ নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজ রহমান জানান, প্রকল্পটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পর্দ্দার বলেন, এ বিষয়ে তথ্য নেই এবং বগুড়ায় জিজ্ঞাসা করতে বলেন। অন্যদিকে বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তথ্য সিরাজগঞ্জেই রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেডের ম্যানেজার মাসুদ দাবি করেন যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তবে উৎপাদিত পরিমাণ জানাতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফজলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ প্রকল্পটি বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিপিডিবির উদ্যোগের অংশ ছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন না হওয়ায় জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্বের লুকোচুরি লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত এবং এ ধরনের উদ্যোগে সম্ভাব্যতা যাচাই, সাইট নির্বাচন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রায়ই চ্যালেঞ্জ দেখা যায়। সিরাজগঞ্জ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বায়ুর গতিবেগ যথেষ্ট কি না তা নিয়েও বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা রয়েছে।

প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।



banner close
banner close