বুধবার

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকার হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চলছে চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৯

শেয়ার

বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকার হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চলছে চিকিৎসা
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির কারণে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এর আগেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় তীব্র লোডশেডিং চলছিল। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে কোনো জেনারেটর নেই। আইপিএস থাকলেও তা প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে এবং বর্তমানে সেটিও অচল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেই পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে যায়।

মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড অন্ধকারে ঢেকে যায়। এ সময় চিকিৎসকেরা নিজেদের মোবাইলের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা দেন। জরুরি বিভাগে আগত রোগীদের ক্ষত পরীক্ষা, ড্রেসিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয় মোবাইলের আলোয়। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে নোট লেখার কাজেও একই আলো ব্যবহার করতে হয়।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে ভোগান্তি।

চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বদিউল আলম নামের এক রোগী বলেন, এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ এক বড় সমস্যা। জেনারেটর নেই, আইপিএসও নষ্ট থাকে। এখন আবার ভয়াবহ লোডশেডিং। বাধ্য হয়ে এখানে আসতে হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।

এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া ইসলাম নিপুণ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সারাদিন অন্ধকারে কাজ করতে হয়। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে হাসপাতালে রাউন্ড দিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও রোগীদের সেবা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গত ২১ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বালানি বরাদ্দ সংকট নিয়ে ঢাকা পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেগুলো চালু রাখা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার জানান, জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।



banner close
banner close