মঙ্গলবার

২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেড় বছরে ১২৪ খুন: চট্টগ্রামে বেপরোয়া ‘টার্গেট কিলিং, বাড়ছে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:১৭

শেয়ার

দেড় বছরে ১২৪ খুন: চট্টগ্রামে বেপরোয়া ‘টার্গেট কিলিং, বাড়ছে আতঙ্ক
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ‘টার্গেট কিলিং’-এর ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা থামছে না। জেলার ১৫টি উপজেলায় গত দেড় বছরে প্রায় ১২৪টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যার অধিকাংশই পরিকল্পিত ‘টার্গেট কিলিং’ বলে মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাউজান উপজেলায়। রোববার রাতেই সেখানে ও সাতকানিয়ায় পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাউজানে গুলি করে হত্যা করা হয় নাসির উদ্দিন নামে এক যুবদল কর্মীকে। একই রাতে সাতকানিয়ায় শাহাদাত হোসেন নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে সংঘাত বেড়েছে। এসব সংঘাতের জের ধরেই ঘটছে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড। একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গ্রুপ বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী খানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে নাসির উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় সক্রিয় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ২১ মাসে শুধু রাউজানেই অন্তত ২৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার বেশিরভাগই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট।

অন্যদিকে, সাতকানিয়ার মডেল মসজিদের সামনে নিজের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় শাহাদাত হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলায় গুরুতর আহত শাহাদাতকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত দুই বছরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ও হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে দুজনকে হত্যা করা হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে শত শত মানুষের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় ঢাকাইয়া আকবরকে। একই বছরের অক্টোবর ও জানুয়ারিতেও পৃথক হামলায় প্রাণ হারান আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (শিল্প ও ডিবি) জানান, রাউজানের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অপরাধপ্রবণতা কিছুটা বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান এসব টার্গেট কিলিং চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।



banner close
banner close