সোমবার

২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে ভ্যাট কর্মকর্তা হত্যা: পাঁচ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৪৭

শেয়ার

চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে ভ্যাট কর্মকর্তা হত্যা: পাঁচ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লায় চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া ভ্যাট কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‍্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দেওয়ায় তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। পরদিন ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন।

অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার ও হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত।

র‍্যাব আরও জানায়, ঘটনার রাতে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর বুলেট বৈরাগীকে লক্ষ্য করে ওঁৎ পেতে ছিল চক্রটি। পরে তাকে সিএনজিতে তুলে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।



banner close
banner close