কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকায় শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা নগর উদ্যানসংলগ্ন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে মরদেহ নেওয়া হলে সহকর্মী ও স্বজনদের উপস্থিতিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় নিহতের স্ত্রী উর্মি হীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্বামীর হত্যার কারণ জানতে চান।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুলেট বৈরাগী কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানসহ বসবাস করতেন। তিনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের অধীনে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১ এপ্রিল তিনি ৪৪তম মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চট্টগ্রামে যান।
নিহতের স্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তিনি নিয়মিত সপ্তাহ শেষে কুমিল্লায় ফিরতেন। ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। রাতে কয়েকবার ফোনে কথা হলেও পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এরপর ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভোরের দিকে একটি কল রিসিভ হলেও কণ্ঠস্বর অপরিচিত মনে হওয়ায় তিনি সন্দেহ করেন। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শনিবার দুপুরে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।
শনিবার সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশে মহাসড়কের ধারে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল মোস্তফা জানান, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বুলেট বৈরাগীর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি সপ্তাহেই তার বিবাহবার্ষিকী এবং সন্তানের প্রথম জন্মদিন উপলক্ষে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কুমিল্লায় আনা হয় এবং পরে দাফনের জন্য গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পাঠানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো উদঘাটিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








