রবিবার

২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতায় বাড়ছে লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৩২

শেয়ার

অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতায় বাড়ছে লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন
ছবি এআই বানানো

তীব্র গরমের মধ্যে দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। শনিবার দুপুরে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট এবং সরকারি বিভাগগুলোর সমন্বয়হীনতাই এ পরিস্থিতির মূল কারণ।

দেশজুড়ে তাপদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ হাঁসফাঁস করছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। রাজধানীর পাশের জেলা গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। অর্থ সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় কয়লা ও জ্বালানি কিনতে পারছে না। অন্যদিকে অর্থ বিভাগ ভর্তুকির অর্থ ছাড়ে নতুন শর্ত আরোপ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে বিদ্যুৎ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৫৭৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট। ফলে ২ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। যদিও দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট, বাস্তবে তার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াটে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অনেকগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। বড়পুকুরিয়া ও অন্যান্য কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ থাকা, কয়লার মান ও সরবরাহ সংকট এবং বকেয়া বিল পরিশোধে জটিলতা এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ চলছে। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, গ্রীষ্মের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হলে এ সংকট অনেকটাই এড়ানো সম্ভব ছিল।

অর্থ বিভাগের শর্ত আরোপ ও ভর্তুকি বিলম্ব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। জানা গেছে, সম্প্রতি ভর্তুকির অর্থ ছাড়ে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বিল পাচ্ছে না। এতে জ্বালানি কেনা ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির প্রস্তাবও অর্থ বিভাগ নাকচ করেছে। ফলে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক জটিলতা নিরসন না হলে চলমান সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। আপাতত বৃষ্টি ছাড়া স্বস্তির কোনো তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা দেখছেন না তারা।



banner close
banner close