দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আগামী ২৮ এপ্রিল ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাশিয়ার অংশীদারদের আলোচনার ভিত্তিতে এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনিংয়ের পূর্ববর্তী এই ধাপটি কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের প্রায় তিন মাসের মধ্যে, অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। শুরুতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়া হবে।
এর আগে লাইসেন্স জটিলতার কারণে গত ৭ এপ্রিল নির্ধারিত জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যু’ সমাধানের পর ১৬ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বলেন, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য ৫২ জন বিশেষজ্ঞ সফলভাবে লাইসেন্স অর্জন করেছেন। লিখিত, মৌখিক ও সিমুলেশন পরীক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তাদের দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত সেফটি অ্যানালাইসিস রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। কমিশনিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় সবকিছু সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস সময় লাগবে। সব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটি মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশের বেশি পূরণ করতে পারবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই কেন্দ্র চালু হলে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সহায়তা করবে এবং আমদানিনির্ভর তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।
আরও পড়ুন:








