শুক্রবার

২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

সয়াবিন তেলের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, কৃত্রিম সংকটে অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৪৪

শেয়ার

সয়াবিন তেলের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, কৃত্রিম সংকটে অস্থিরতা
ছবি সংগৃহীত

দেশে সয়াবিন তেলের বাজারে ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা। পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং খোলা তেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়ে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে প্রভাব বিস্তারকারী একটি সিন্ডিকেট সরকারকে চাপে ফেলতে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান সত্ত্বেও তারা নিজেদের মতো করে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য কিনতে গিয়ে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের সয়াবিন তেলের বাজারের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র কয়েকটি কোম্পানি। তারা আমদানি ও পরিশোধনের পর বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। তার মতে, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন চলতি মাসের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়, যা সরকারের নির্ধারিত ১৯৫ টাকার চেয়ে বেশি। পাশাপাশি ৫ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার ২০ টাকা এবং খোলা তেলের দাম ১৮৫ টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব অনুমোদনের আগেই কার্যকর করার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

১২ এপ্রিল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কোনোভাবেই দাম না বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন। তবে বৈঠকের ১১ দিন পরও বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগে যেখানে দিনে ২০ কার্টন তেলের চাহিদা দেওয়া হলে সরবরাহ মিলত, এখন সেখানে ২ থেকে ৪ কার্টনের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বাজারে চাহিদা বাড়ার সুযোগে খোলা তেলের দামও বেড়ে গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের ঘাটতি প্রকট। কোথাও কোথাও শুধু ৫ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনছেন, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবে সরকারি সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল মজুত রয়েছে এবং আরও ৩ লাখ ৬০ হাজার টন আমদানির পথে রয়েছে। তাই সরবরাহ সংকটের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে এবং এই সময়ে কোনোভাবেই পণ্যের দাম বাড়তে দেওয়া হবে না।



banner close
banner close