বগুড়ার শেরপুর থানায় ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এক নারী উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে নূর মোহাম্মদ মামুন নামের এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রোখসানা খাতুন গত ১৯ এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন। ভুক্তভোগী মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে থানায় গিয়ে তিনি ডিউটিরত ওই কর্মকর্তাকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করে কথা বলতে চান। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে গালাগালি করা হয় এবং কোনো লিখিত অভিযোগ বা নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাকে আটকে রাখা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, এসআই রোখসানা খাতুন যোগদানের পর থেকেই সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ রয়েছে। রেজাউল করিম, আলী হাসান ও নাইম ইসলাম নামের কয়েকজন অভিযোগ করেন, থানায় গেলে তারা অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন এবং ধমক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
এদিকে ইমরান হোসেন নামের একজন জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, এসআই রোখসানা খাতুনের আচরণ ও মেজাজজনিত কারণে সহকর্মীদের মধ্যেও অস্বস্তি রয়েছে। তার ডিউটির সময় কর্মপরিবেশ তুলনামূলক চাপপূর্ণ থাকে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. মঈনুদ্দীন বলেন, “এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে আগেও কিছু মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
তবে অভিযুক্ত এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, জনবান্ধব পুলিশিং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা প্রশ্ন তৈরি করছে এবং বাহিনীর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

.png)






