বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

সর্বশেষ
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক; ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি ভয়াল ২৮ অক্টোবর; আ. লীগের দায়ীদের বিচার কি হবে? ২৮ অক্টোবরে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে গাজীপুরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে: ইসি সচিব পল্টন ট্র্যাজেডির বিচার নিশ্চিতের দাবি: রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ সিরাজগঞ্জে দরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ: প্রকৌশলী সাফিউলের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে পুলিশের গাড়ির সামনেই নিষিদ্ধ যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

জয়পুরহাটে মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১৫

শেয়ার

জয়পুরহাটে মাদ্রাসা ছাত্রকে মারধর: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
ছবি সংগৃহীত

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসার ছাত্রকে বেধড়ক মারধরের পরে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠেছে।

গতকাল বুধবার (২২এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনামুখি ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

আহত ওই শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান(১০) রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া ও নূরানী কওমী মাদ্রাসার ছাত্র এবং ওই ইউনিয়নের মিজানুর রহমানের ছেলে।

জানা গেছে, নাহিদ প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। বুধবার সকালে পড়া দিতে না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক আবু হুরাইরা তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন ও মাদ্রাসার একটি ঘরে আটকে রাখেন। বিকেলে নাহিদের বাবা খাবার নিয়ে গেলে অন্য শিক্ষার্থীর মাধ্যমে জানতে পারেন তার ছেলেকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তার ছেলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তিনি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান । সেখান থেকে নাহিদকে চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় চিকিৎসক আনিসুর রহমানের দোকানে নিয়ে আসেন।

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন অভিযুক্ত শিক্ষক আবু হুরায়রা মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে গেছেন। পরে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে স্থানীয়রা ওই ওষুধের দোকানের নিয়ে আসেন এবং অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঐ শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, ইতিপূর্বে ওই মাদ্রাসায় মারধরের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, শাসন করুক, এতে আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে, তা অমানবিক। চোরকেও এভাবে মারা হয় না। সকালে মারার দাগ সন্ধ্যাতেও স্পষ্ট রয়েছে। শিক্ষকদের উচিত ছিল ঘটনাটি আমাকে জানানো। তারা তা না করে ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে দিয়েছে। আমি এর যথাযথ বিচার চাই।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক(মুহতামিম) ওমর ফারুক বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেছেন। তবে তাঁকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ সঠিক নয়। উত্তেজিত লোকজন আমাকে লাঞ্ছিত করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন আলী বলেন, ওই মাদ্রাসায় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ শোনা যায়। আগেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

‎মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, ছাত্রের শরীরের অবস্থা দেখে আমি হতবাক হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, ছাত্রকে বেত্রাঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



আরও পড়ুন: