সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে এক মসজিদের ইমাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল রাতে ওই নারীকে নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ইমাম হাফেজ ইমরান হোসেন নূরী।
স্থানীয় বাসিন্দা, পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁশবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ইমরান হোসেন নূরী একই এলাকায় মিফতাহুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
মাদ্রাসার পাশেই বসবাস করতেন রানা সেখ। তিনি স্ত্রী ইসমত আরা, এক ছেলে এবং বিবাহিত এক কন্যার পিতা। মাদ্রাসায় যাতায়াতের সূত্রে ইমরান নিয়মিত রানা সেখের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং ইসমত আরাকে শাশুড়ি সম্বোধন করতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার সতর্ক করলেও তা উপেক্ষিত হয়।
প্রায় দেড় মাস আগে ঋণজনিত কারণে রানা সেখ পরিবারসহ গাজীপুরে চলে যান। পরে ইমরানও সেখানে গিয়ে ইসমত আরার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। গত ১০ এপ্রিল রাতে গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তাদের একসঙ্গে দেখতে পান রানা সেখ। পরবর্তীতে সামাজিক কারণে ইসমত আরাকে তার বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদে পাঠানো হয়।
এরপর গত ১৩ এপ্রিল রাতে সেখান থেকেই ইসমত আরাকে নিয়ে চলে যান ইমরান। এরপর থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইমরানের বাবা দুলাল সেখ জানান, ছেলের এই ঘটনায় পরিবারটি সামাজিকভাবে বিব্রত অবস্থায় রয়েছে এবং তার পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইসমত আরার স্বজন ফুলু মালা বলেন, বিষয়টি জানার পর পরিবার থেকে তাদের বিরত করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোমিন মন্ডল জানান, ইমরান মাদ্রাসার প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আখিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে, তবে এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দেয়নি।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাশমত আলী জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:








