ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এমনকি দিনদুপুরেও গণপরিবহনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের অভিযোগ, থানায় গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় তারা হতাশ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা পর্যাপ্ত নয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় ঘাটতি ও চেইন অব কমান্ড দুর্বল হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে সারাদেশে ৩১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রাজধানীতে ২৪টি। একই সময়ে অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ নানা অপরাধের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতা ও সামাজিক কাঠামোর অস্থিরতা অপরাধ প্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এ.বি.এম নাজমুস সাকিব বলেন, সমাজে কাঠামোগত পরিবর্তনের সময় অস্থিরতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তিনি কার্যকর বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান ও ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘটনার ভিত্তিতে তদন্ত ও গ্রেফতার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা, তুরাগ, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, হামলা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে গাজীপুর, সাভার, ধামরাই ও নারায়ণগঞ্জ থেকেও। এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:








