বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মামা-ভাগ্নে মিলে তৈরি করেছেন ‘থান্ডারবোল্ড’ নামের একটি মিসাইল ও রকেট প্রোটোটাইপ, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ৬-৭ মাসের প্রচেষ্টায় প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছেন তারা।
উদ্ভাবক দুইজন হলেন উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের গৌতম পালের ছেলে ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম পাল এবং তার মামা, একই গ্রামের জয়দেব চন্দ্র পালের ছেলে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল। ২০২৫ সালে তারা এ প্রকল্পের কাজ শুরু করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে তারা এ উদ্যোগ নেন। তবে সরকারি অনুমতি না থাকায় এখনো এটি নিক্ষেপ বা পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, দুজনই দীর্ঘদিন ধরে রোবটিক্স নিয়ে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রমে যুক্ত। তারা আইডিইএ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দশেও স্থান করে নিয়েছেন।
প্রিতম পাল এর আগে রোবোটিক্স হাত ও স্মার্ট সিটি ধারণা তৈরি করে ২০২৪ সালের ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে স্বর্ণপদক এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে রৌপ্যপদক অর্জন করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ কর্মসূচিতে উপজেলা পর্যায়ে বর্ষসেরা মেধাবী হিসেবে স্বীকৃতি পান।
অন্যদিকে, সুজন চন্দ্র পাল ২০২২ সালে আগুন ও গ্যাস লিকেজ শনাক্তকারী একটি রোবট উদ্ভাবন করেন, যা ২০২৩ সালের ৪৪তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে প্রথম স্থান অর্জন করে।
প্রিতমের পিতা ও স্থানীয় ইউপি সচিব গৌতম পাল বলেন, ছেলে টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ও পরিবারের সহায়তায় এ কাজ করেছে। আমরা গর্বিত। তারা যেন দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে, সে জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।
সুজন চন্দ্র পাল বলেন, ছোটবেলা থেকেই উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই আমরা যৌথভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রিতম পাল জানান, মামাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই প্রকল্পে কাজ করেছি। যথাযথ সহায়তা পেলে এটিকে আরও উন্নত করা সম্ভব।
গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, তারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। তাদের এই সাফল্য এলাকার জন্য সম্মানের।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খোরশেদ আলম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবন দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো উচিত।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক আমির সোহেল বলেন, প্রিতম সবসময়ই নতুন কিছু নিয়ে কাজ করে। আমরা ল্যাব সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করছি। সরকারের উচিত এমন মেধাবীদের আরও সহায়তা দেওয়া।
আরও পড়ুন:








