মঙ্গলবার

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

রেললাইন দখল করে ছাত্রদল নেতার হোটেল নির্মাণ, এজাহার দিলেও থানা থেকে নথি গায়েব

বিশেষ প্রতিনিধি,বগুড়া:

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৮

শেয়ার

রেললাইন দখল করে ছাত্রদল নেতার হোটেল নির্মাণ, এজাহার দিলেও থানা থেকে নথি গায়েব
ছবি বাংলা এডিশন

বগুড়ায় রেললাইন দখল করে হোটেল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ গেট সংলগ্ন এলাকায় রেল লাইন সংলগ্ন জমি ও পরিত্যাক্ত রেললাইনের ওপর কংক্রিট ঢালাই করে স্থাপনা গড়ে তোলায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থানায় এজাহার দাখিল করলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মামলা নথিভুক্ত হয়নি। থানার ওসি বলেন অভিযোগটি থানায় খোঁজাখুঁজিনকরে পাইনি। এমনকাণ্ডে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহফুজুল ইসলাম বলেছেন এসব অবৈধ দোকানপাটের কারনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী থেকে শুরু করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জানাগেছে,ঐতিহ্যবাহী বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ-এ প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বৃহৎ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন, যা প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক- কর্মচারীদের যাতায়াতের পথ। কিন্তু নিরাপদ পারাপারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই এই রেললাইনটি পরিণত হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মাহমুদুল হক কলেজ গেট সংলগ্ন রেলওয়ের জায়গা ও পরিত্যাক্ত রেল লাইনের উপর কংক্রিটের ঢালাই করে স্থাপনা তৈরী করে হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে শিক্ষার্থীদের আড্ডা চলে। হোটেলের পাশ দিয়েই রেললাইন চলে গেছে। অনেকে চা পান করতে করতে অথবা মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে রেল লাইনের উপর চলে যাচ্ছে ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

কলেজ সংলগ্ন রেললাইন পার হতে গিয়ে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনাসহ প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনা ঠেকাতে স্থানীয়ভাবে বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী রেলগেট নির্মাণ করা হলেও সেটি কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারছে না। বরং রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মাহমুদুল হক রেলেওয়ের জায়গা দখল করে হোটেল নির্মানের অভিযোগ স্বিকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার জন্য আমি সেখানে সাইনবোর্ড দিয়েছি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রেললাইনের দুই পাশে এবং কিছু লাইনের ওপরেই কংক্রিট ঢালাই দিয়ে স্থায়ী কাঠামোর দোকান তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতা ছাড়াও আরো অনেকে এসব দোকান বসিয়ে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছেন। ফলে এটি শুধুমাত্র দখলদারিত্ব নয়, বরং একটি অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে।

জানুয়ারী মাসে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও দোকান গড়ে উঠেছে।

বগুড়া রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো রাজীবুজ্জামান বলেন, আমি নিজে এসব স্থাপনা নির্মানে বাঁধা দিতে গিয়ে হুমকী ধামকির শিকার হয়েছি। একারনে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বগুড়া সদর থানায় ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হক ও মালগ্রামের জহুরুল হকের নামে এজাহার দাখিল করি। অজ্ঞাত কারনে এজাহার নথিভুক্ত করা হয়নি। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন,আমি নতুন এসেছি,বিষয়টি আমার জানা নাই,তিনি বলেন,রেলওয়ের অভিযোগটি থানায় খুজেও পাওয়া যায়নি।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাজেদুর রহমান বলেন রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ করা সম্ভব না। একারনে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলেছি নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহফুজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জায়গা রেলওয়ের। আমরা কি করে উচ্ছেদ করবো?এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিয়ে উচ্ছেদ করতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশংকা থাকে। তিনি বলেন, আমি রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।তারা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পর কলেজ গেটের সামনের জায়গা গুলো কলেজের নামে বরাদ্দ দিবে। আমরা সেই জায়গায় ফুলের বাগান করবো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই দখল কার্যক্রম বারবার ফিরে আসছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাসে যাতায়াতের সময় রেললাইন পার হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। দোকানপাটের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় ট্রেন আসা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযুক্ত বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মাহমুদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি, দখল করা হয়েছে অভিযোগ সত্য নয়। অস্থায়ী বাশ আর টিনের দোকান করা হয়েছে ছোট ভাইদের কর্মের জন্য। প্রতিপক্ষরা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, আমি নতুন এসেছি, বিষয়টি আমার জানা নেই। রেলওয়ের অভিযোগটি থানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে এজাহার দাখিল করলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



banner close
banner close