রবিবার

১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেশীয় অকটেন না নেওয়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০১

শেয়ার

দেশীয় অকটেন না নেওয়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র
ছবি এআই জেনারেট

দেশে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি না পাওয়ার মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি হঠাৎ করে দেশীয় উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রোল গ্রহণ বন্ধ করায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রায় ১০ দিন আগে দেওয়া নির্দেশনায় বেসরকারি উৎপাদকদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল নেওয়া স্থগিত করা হয়, যদিও সরকারি সূত্র ডিপোতে ধারণক্ষমতার ঘাটতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টন অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৭৫ শতাংশ সরবরাহ করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু বর্তমানে ডিপোগুলোতে সংরক্ষণ সংকট তৈরি হওয়ায় বিপিসি এ সরবরাহ গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে। এতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহে ঘাটতি এবং একই সময়ে মজুত বেশি থাকার তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার ঘাটতি থাকায় বিতরণ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগাম পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে এ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে জ্বালানি তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে অকটেন সংরক্ষণের সক্ষমতা প্রায় ৫৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে নতুন করে জাহাজে আমদানি হওয়া তেল যুক্ত হওয়ায় ডিপোগুলোতে চাপ আরও বেড়েছে। কেরোসিন ডিপোকে অকটেন সংরক্ষণের উপযোগী করতে বিলম্ব হওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা জানান, বিপিসির সিদ্ধান্তের কারণে তাদের ট্যাংকারগুলো পূর্ণ হয়ে রয়েছে এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে বিপিসিকে চিঠি দিয়ে দ্রুত তেল গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ কারণে আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিন বিতরণ কোম্পানি দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ হাজার ৭৭৭ টন ডিজেল, ১ হাজার ৪৯৬ টন পেট্রোল এবং ১ হাজার ১৯৩ টন অকটেন সরবরাহ করছে। তবে রেশনিং ব্যবস্থা, সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং মজুত ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার টন ডিজেল আমদানির কথা রয়েছে, যার একটি অংশ ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে এবং বাকি সরবরাহ শিগগিরই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



banner close
banner close