সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তঘেষা বোগলাবাজার এলাকায় কথিত খামারের অনুমোদন নিয়ে গড়ে উঠেছে ভারতীয় গবাদিপশুর ‘ রাত্রিযাপন আবাসিক হোটেল’।
কাগজপত্রে এগুলো গরুর খামার হিসেবে নিবন্ধিত হলেও বাস্তবে রাতভর গরু রেখে অর্থ আদায়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। বিষয়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বোগলাবাজারের বিভিন্ন স্থানে খামারের নামে নির্মিত স্থাপনাগুলোতে দিনের বেলায় তেমন কোনো গবাদিপশু লালন-পালনের চিত্র নেই। তবে রাত হলেই ভারতীয় গরু এনে সেখানে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব গরুর একটি বড় অংশ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে আসা, যা পরদিন ভোরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিটি গরুর জন্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত রাত্রিযাপন ফি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খামারগুলো কেবল দেখানোর জন্য বাইরে ঘাস-খড় রাখা হয়। কিন্তু ভেতরে নিয়মিত কোনো খামার কার্যক্রম নেই। রাতে গরু এনে রাখা এবং ভোরে সরিয়ে নেওয়াই মূল কাজ। এলাকায় মোট ৮টি খামার রয়েছে এর মধ্যে ৪টি নিবন্ধিত ও ৪টি অনিবন্ধিত।
বোগলাবাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, রাতে খামারগুলোতে গরু ভর্তি হয়, আবার সকালে সেগুলো অন্যত্র চলে যায়। এতে স্থানীয় বাজারে গরুর দামে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল মালেক বলেন, খামারের অনুমোদন ব্যবহার করে যদি এ ধরনের কার্যক্রম চলে, তাহলে এটি শুধু অবৈধ বাণিজ্যই নয়, বরং সীমান্ত এলাকার আইন-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসনের আরও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে খামার মালিক আবু হানিফা বলেন, আমি একা নই, আরও অনেকেই খামারে গরু রাখে। পাইকাররা কিনে এখানে রাখে, পরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়।
অন্য এক খামার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আমরা কারও অবৈধ গরু রাখি না। যারা গরু নিয়ে আসে, তারা নিজেদের গরু বলেই রাখে। রাতে রাখার জায়গা চাওয়ায় আমরা দিই।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, খামারের অনুমোদন নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকির অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ও নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে খামারের আড়ালে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
এ অবস্থায় খামারগুলোর কার্যক্রম দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নিবন্ধনবিহীন খামার বন্ধ এবং নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:






.jpg)

