শনিবার

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে নেট মিটারিং না থাকায় লোকসান

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫০

আপডেট: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫২

শেয়ার

সিরাজগঞ্জে নেট মিটারিং না থাকায় লোকসান
ছবি বাংলা এডিশন

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকোর সঙ্গে চুক্তি ও নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় এই ক্ষতি হচ্ছে। ফলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের আর্থিক সমন্বয় সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ৫ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে নেট মিটারিং চুক্তি বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে বিল সমন্বয় করা যায়।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করে নেট মিটারিং চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। সেখানে উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যে সমন্বয় থাকায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না।

অন্যদিকে, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৭০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলেও এখনো পর্যন্ত নেসকোর সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি এবং নেট মিটার স্থাপন করা হয়নি। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের আর্থিক হিসাব সমন্বয় করা যাচ্ছে না।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজ রহমান জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি হয়নি এবং সেখানে নেট মিটার স্থাপন করা হয়নি।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম জানান, ১৭০ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমটি ওয়ান-গ্রিড লাইনের মাধ্যমে চালু রয়েছে। একই বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের হিসাবে, এ সিস্টেম থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ওয়াদুদ জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানে নেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পর্দ্দার জানান, গত মার্চ মাসে হাসপাতালে প্রায় ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। তবে বিল সমন্বয় বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নেট মিটারিং চালু ও প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পন্ন করা হলে আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে এবং সোলার বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।



banner close
banner close