শনিবার

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩

অদৃশ্য চাপ’ উপেক্ষা করে ৫৫ বছর পর গরু জবাই; মুসলিমদের আনন্দ-উল্লাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:১৪

শেয়ার

অদৃশ্য চাপ’ উপেক্ষা করে ৫৫ বছর পর গরু জবাই; মুসলিমদের আনন্দ-উল্লাস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৫৫ বছর পর কুড়িগ্রামের ডাকনিরপাট বাজারে গরু জবাই দেয়া হলো। আওয়ামী লীগ, ভারত আর অদৃশ্য চাপ উপেক্ষা করে মুহূর্তটি আনন্দের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। গরুর সাথে সাথে শুক্রবার বিকেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি খাসির ব্যবস্থাও রাখা হয়।

জবাইয়ের পর বাংলা এডিশনের কাছে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেন স্থানীয় জনতা। যেন ভারী এক বোঝা নেমে গেছে তাদের শরীর থেকে।

এলাকাবাসী বলছেন, ১৯৭১ সালে হিন্দুরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে—এই যুক্তিতে ৫৫ বছর ধরে ডাকনীরপাট বাজারে গরু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে গরু জবাই উপলক্ষে এলাকার প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এলাকায় গরু জবাইয়ের এক করুণ ইতিহাসও বর্ণনা করেন স্থানীয় আলেমরা।

শুক্রবার সকাল থেকেই গরু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্বের কথাও বারবার স্মরণ করেন তারা।

এর আগে, গত ১১ এপ্রিল বাংলা এডিশনে কুড়িগ্রামে অদৃশ্য চাপে গরু জবাই করতে পারে না মুসলিমরা—এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদ থেকে জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ডাকনীরপাটে অদৃশ্য চাপে গরু জবাই করতে পারতেন না স্থানীয় মুসলিমরা। ডাকনীরপাটের দুই নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২১০০ ভোটারের মধ্যে ১৬০০-এর বেশি মুসলিম। বাকি প্রায় ৫০০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

স্বাধীনতার পর থেকেই ওই এলাকায় গরু জবাই নিষিদ্ধ ছিল। দেশে বিভিন্ন সময় সরকার পরিবর্তন হলেও গরু জবাইয়ের স্বাধীনতা না পাওয়ায় বাংলা এডিশনের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় মুসলিম ও মাংস ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে ভোটার তালিকা অনুযায়ী ডাকনীরপাট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা হলেও স্থানীয় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আগে দাবি করেছিলেন, এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে গরু জবাই হয় না।

বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর স্থানীয় হিন্দু-মুসলিমরা একত্রে বসে ওই এলাকায় গরু জবাই করার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে স্থানীয়ভাবে যেন কোনো দাঙ্গার সৃষ্টি না হয়, তা নিয়েও বেশ সচেতন ছিলেন এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়। তাই গরুর পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি খাসিও কেনা হয়।

গরু জবাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে কুড়িগ্রামের প্রায় সব পক্ষের মানুষই উপস্থিত ছিলেন—স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেকেই ছিলেন।

এছাড়া স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সুভাষ চন্দ্রসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।



banner close
banner close