লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রীসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত মহিবুর রহমান সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দালালচক্রের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে গ্রীসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন মহিবুর। প্রায় ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমান, যার জন্য পরিবারকে জমি বিক্রি ও ঋণ নিতে হয়েছে।
একই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এক যুবক গ্রীসে পৌঁছে ফোনে জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। টানা কয়েকদিন অনাহারে থাকার ফলে দুর্বল হয়ে মহিবুর রহমান মারা যান। পরে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় মৃতদেহগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেগুলো সাগরেই ফেলে দেয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মহিবুরের মরদেহও নিখোঁজ রয়েছে।
বুধবার গাগলাজুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শোকাহত পরিবার ভেঙে পড়েছে। মা মহিমা বেগম অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী, ছোট ভাই হাফিজুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বাবা নুরুল আমিন শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মহিবুর রহমান পরিবারের বড় সন্তান ছিলেন। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করে তাঁর উপার্জনেই চলত সংসার। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার শিকার না হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এই নৌকাডুবির ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন:








