দেশে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট ও স্থবির আয়ের প্রভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচ বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষ ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয় বৃদ্ধির তুলনায় ব্যয়ের চাপ বেশি হওয়ায় প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৯ শতাংশে অবস্থান করছে। তবে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ হওয়ায় প্রকৃত আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। রাইড শেয়ারিং খাতে যুক্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষের একটি বড় অংশ জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় করায় আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নির্ধারিত সময়ের আগেই শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
চিকিৎসা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় উঠে এসেছে। অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ঋণ নিচ্ছে, যা পরবর্তীতে আর্থিক সংকট বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রামক রোগে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে।
শিক্ষা খাতে ব্যয় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাব্যয় গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কিছু পরিবার সন্তানদের পড়াশোনা চালাতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারও বাড়ছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আয়ের কারণে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় জীবনযাত্রার মানের অবনতি হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য সহায়ক নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন:








