চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নে এক কিশোরীকে মুদির দোকানে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে পূর্ব চাম্বল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাতঘর পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত আরিফ উল্লাহ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী ঘটনার রাতে তার খালার বাড়িতে অবস্থান করছিল। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী লেদু মিয়ার ছেলে আরিফ উল্লাহ তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক পাশের নিজের মুদির দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে দোকানের শাটার বন্ধ করে কিশোরীর মুখ টেপ দিয়ে আটকে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
দীর্ঘক্ষণ কিশোরীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হলে আরিফের দোকানের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পান। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আরিফ দোকান খুলে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। গত ১২ এপ্রিল চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেলেও চিকিৎসক সেখানে 'সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট'-এর আলামত নিশ্চিত করেছেন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত আরিফের মুদির দোকানটি দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় বখাটেদের আড্ডাখানা হিসেবে পরিচিত। সেখানে নিয়মিত কেরাম খেলা, জুয়া এবং মোবাইল গেমের আড়ালে মাদকের কারবার চলত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'দোকানের আড়ালে সে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। এর আগেও একাধিকবার মেয়েদের উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।'
ভুক্তভোগীর বাবা জয়নাল আবেদীন জানান, ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমার মেয়ের ওপর যে পাশবিক নির্যাতন হয়েছে, তার বিচার চাইতে গিয়ে এখন প্রাণনাশের হুমকিতে আছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।'
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) রিপন বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের জবানবন্দি শুনেছি এবং ভিডিও ধারণ করে রেখেছি। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।'
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, 'এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ভুক্তভোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও প্রাথমিক তদন্তের কাজ চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনের হাত থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই।'
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত আরিফকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








