মঙ্গলবার

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে থমকে গেছে পর্যটন: অবহেলায় পর্যটকশূন্য বাঁশখালী ইকোপার্ক

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:২৪

শেয়ার

ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজে থমকে গেছে পর্যটন: অবহেলায় পর্যটকশূন্য বাঁশখালী ইকোপার্ক
ছবি বাংলা এডিশন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র বাঁশখালী ইকোপার্ক এখন অবহেলা ও ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ক্রমেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন সড়ক ও একটি ভগ্নপ্রায় ব্রিজ এই পরিস্থিতির জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’-এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢলে ইকোপার্কের প্রধান গেট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সড়ক ধ্বসে পড়ে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠের ব্রিজ ভেঙে যায়। পরবর্তীতে অস্থায়ীভাবে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত তা স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। যার ফলে বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকদের পায়ে হেঁটেই পার্কে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

বাঁশখালী প্রধান সড়ক থেকে ইকোপার্ক পর্যন্ত মোট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩.৩৪ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রতি ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ ফুট প্রশস্ত করে সংস্কার করা হয়েছে। তবে বাকি প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক এখনো সংস্কারের বাইরে রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অংশের জন্য বরাদ্দ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংকীর্ণ ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকবাহী যানবাহন পার্কে প্রবেশ করতে পারছে না। অনেক পর্যটক মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত পর্যটক আয়ান মাহমুদ বলেন, 'বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আমরা একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের গাড়ি ভাঙা কাঠের ব্রিজে এসে আটকে যায়। পরে নারী ও শিশুদের নিয়ে দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে পার্কে পৌঁছাতে হয়েছে। এভাবে হলে কেউ এখানে আসতে আগ্রহী হবে না।' একই সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় ইকোপার্কের ইজারাদারও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা যায়।

ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হক বলেন, 'সম্প্রতি প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে বাকি দেড় কিলোমিটার কাজ বন্ধ রয়েছে। ব্রিজ ও সড়কের সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।'

এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মুহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনীর 'বাংলা এডিশন' কে জানান, 'ব্রিজসহ সড়কের অবশিষ্ট অংশ সংস্কারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।'

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা বাঁশখালী ইকোপার্ক একসময় দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম ছিল। ২০০৮ সালে পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর থেকে এর উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পার্কের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে পড়ে এবং পর্যটকদের আগ্রহ কমতে থাকে।

একসময় পাখির কিচিরমিচির, বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির বিচরণ, বামের ও ডানের ছড়ার স্বচ্চ পানির লেক, আঁকাবাঁকা পথ, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ এবং পর্যটন টাওয়ার থেকে মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় জমাতেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু এখন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ আর ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সেই জৌলুস হারাতে বসেছে সম্ভাবনাময় এই পর্যটনকেন্দ্র।



banner close
banner close