গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ফোন নম্বর ও ফেসবুক আইডি না দেওয়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা থেকে ফেরার পথে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আলফি আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রবিবার সন্ধ্যায় মেলার প্রায় দুইশ গজ পশ্চিমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুর সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আলফি আক্তার বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামদেব গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশ নেয় বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাইস্কুল। মেলায় অংশগ্রহণ করে সুন্দরগঞ্জ আবদুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।
মেলা চলাকালে বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতনের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর কাছে সরকারি বয়েজ স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোন নম্বর ও ফেসবুক আইডি চান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। একই সময় মেলায় প্রদর্শিত উপকরণও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাওয়াল আক্তার বলেন, ‘বয়েজ স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের কয়েকজনের মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক আইডি চায়। আমরা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে মেলার বাইরে এসে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।’
আরেক শিক্ষার্থী মিম আক্তার বলেন, ‘আমাদের কয়েকজনের নম্বর চাইলে আমরা দেইনি। বিষয়টি স্যারদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে মেলা শেষে বাইরে আসার সময় তারা আমাদের পথরোধ করে হামলা চালায়।’
বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলের পরিচালক মো. নুর আলম সিদ্দিকি বলেন, ‘ঘটনাটি মেয়েরা আমাকে আগেই জানিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে আয়োজকদের জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই পরিস্থিতি হতো না। সরকারি বয়েজ স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটাচ্ছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
সুন্দরগঞ্জ আবদুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোনতাহা নাজমীন বলেন, ‘আমাদের ৯ জন শিক্ষার্থী ছিল। মেলা শেষে সব উপকরণ রিকশায় তুলে দিয়ে আমরা চলে আসি। এরপর কী ঘটেছে তা জানি না। পরে মারামারির খবর পাই।’
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা জড়িত তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন অ্যান্ড মডেল হাইস্কুলের কর্তৃপক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:








