সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে নির্মিত শত কোটি টাকার সড়ক ব্যবহারের আগেই কার্পেটিং উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে এমন ক্ষতি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের বড় আকারের খোয়া, অর্ধেক ভাঙা ইট, প্রকল্প এলাকার ভরাটকৃত বালু ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম করা হয়েছে। খোয়া ও বালুর মিশ্রণে অনিয়ম, খোয়ার স্তরের পুরুত্ব কম রাখা এবং কার্পেটিংয়ের নির্ধারিত পুরুত্ব না মানার কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পাথরের ঢালাই, কোথাও খোয়ার ঢালাই ব্যবহারের মতো অসঙ্গতিও লক্ষ্য করা গেছে।
বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তদন্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে এবং বিসিক কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে তদন্তে কী পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের সময় প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাফাত কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ। প্রকৌশল ও প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক আব্দুল মতিন এবং প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়জিদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৪ সালের জুনে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয় বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে আরাফাত কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী দাবি করেন, তারা নিয়ম মেনেই কাজ সম্পন্ন করেছেন। তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিসিক শিল্প পার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনের সময় ড্রেন, সড়কের পুরুত্ব ও ব্যবহৃত মালামাল নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা জানান, বিস্তারিত প্রতিবেদনেই বিষয়টি জানা যাবে।
এদিকে, তথ্য অধিকার আইনে চাওয়া তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিসিক কর্তৃপক্ষ। সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর ব্যবস্থাপক মাহবুবুল ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট লিখিতভাবে জানান, চাওয়া তথ্যগুলো ব্যবসায়িক গোপনীয়তার আওতাভুক্ত হওয়ায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০–২১ অর্থবছরে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ড্রেন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান এবং সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স লিমিটেডকে প্রায় ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হলেও তা এখনো আদায় করা হয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্পেটিংয়ের নির্ধারিত পুরুত্ব ৭৫ মিলিমিটার থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় তা ৬০ থেকে ৬৫ মিলিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত ৫০ মিলিমিটার আকারের খোয়ার পরিবর্তে বড় আকারের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী, পশ্চিম মোহনপুর, বনবাড়িয়া, বেলটিয়া ও মোরগ্রাম মৌজার প্রায় ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একাধিক দফায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের সর্বশেষ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ শিল্প পার্কে ৮২৯টি প্লটে অন্তত ৫৭০টি শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:








