গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ত্রিশটি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ঘটনাটি উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পূর্ব সোনারায় গ্রামে।
এ ঘটনায় পরিত্রাণ পেতে ভুক্তভোগী মো. মফিজল হক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ওই গ্রামের মো. ছলেহ হক শেখের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মফিজল হকের বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে, যা দিয়ে আশপাশের ৩০-৩৫টি পরিবারের প্রায় ১৫০-২০০ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। পূর্বে এ নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলায় (জিআর নং-৫১৬/২০১০) আসামিদের সাজা হলেও জামিনে বের হয়ে তারা পুনরায় ক্ষুব্ধ আচরণ শুরু করে বলে অভিযোগ।
গত ১১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত আবুল কাশেম, সাজা মিয়া, মনজু মিয়া, আবদুল গনি, উজ্জল মিয়া, অবিজল মিয়া ও রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির উত্তর পাশের সীমানায় এসে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘের তৈরি করে রাস্তা বন্ধ করে দেন।
স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের মারধরের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে শক্তভাবে চারটি স্থানে বেড়া দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অবরুদ্ধ পরিবারগুলো। শ্রমজীবীরা কাজে যেতে পারছেন না, শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না, কৃষকরা গরু-ছাগল নিয়ে মাঠে যেতে পারছেন না। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মো. ছলেহ হক শেখ বলেন, ‘এই রাস্তা ব্রিটিশ আমল থেকে। আমাদের বাপ-দাদারাও এই পথ দিয়ে চলাচল করেছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এখন তারা আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না, সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছে না।’
মোছাঃ খতেজা বেগম বলেন, ‘আমরা বাড়িতে আটকা পড়ে আছি। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল কিছুই বের করতে পারছি না। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। আমরা এর বিচার চাই।’
আরেক ভুক্তভোগী মোছাঃ রোজিনা বেগম বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না, হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলেরা চুপিচুপি বের হয়। বাজারে না গেলে খাবো কি—এই চিন্তায় আছি।’
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার জানায়, ‘স্কুলে যাওয়ার সময় দেখি রাস্তা বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে, তাই যেতে পারিনি।’
অভিযুক্ত মনজু মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। কয়েকদিন আগে জেল থেকে এসেছি। মানসিক অবস্থা ভালো না। তারা ভালো ব্যবহার করলে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে।’
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:








