রবিবার

১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২৯ চৈত্র, ১৪৩২

মাদক সাম্রাজ্যে ১,৬২০ ‘গডফাদার’: তিন স্তরে সক্রিয় ২০ হাজারের বেশি কারবারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:২৪

শেয়ার

মাদক সাম্রাজ্যে ১,৬২০ ‘গডফাদার’: তিন স্তরে সক্রিয় ২০ হাজারের বেশি কারবারি
ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে বিস্তৃত মাদকের অদৃশ্য নেটওয়ার্কে অন্তত ১ হাজার ৬২০ জন ‘গডফাদার’ সক্রিয় রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে তিন স্তরের প্রায় ২০ হাজার ৮৯১ জন কারবারি পরিচালনা করছে হাজার কোটি টাকার মাদক বাণিজ্য। গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান অভিযান সত্ত্বেও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত সাফল্য আসছে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব অভিযানকে ‘লোকদেখানো’ বলেও সমালোচনা রয়েছে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাব ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে এবং কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মোট ২০ হাজার ৮৯১ কারবারির মধ্যে গডফাদার ১,৬২০ জন, পাইকারি পর্যায়ে ৬,২২৭ জন এবং খুচরা পর্যায়ে ১৩,০৪৪ জন সক্রিয়। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে গডফাদারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম (৩০৯ জন), এরপর রাজশাহী (২৭৩), রংপুর (২৩৭), ঢাকা (২৩১), খুলনা (২২৮), বরিশাল (১১৭), ময়মনসিংহ (১১৫) ও সিলেট (১১০)।

পাইকারি ও খুচরা কারবারিতেও চট্টগ্রাম এগিয়ে। পাইকারিতে সেখানে ১,৪২৭ জন এবং খুচরায় ২,৮২৮ জন সক্রিয়। রাজশাহী, ঢাকা, রংপুর ও খুলনাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারবারি রয়েছে।

প্রতিবেদনে গডফাদারদের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক, অর্থ লগ্নিকারী, পৃষ্ঠপোষক ও গাঁজা চাষিদের পৃথক তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তালিকায় রয়েছে ১৯ হাজার ৪৫ জন, আর বিজিবির তালিকায় ৩ হাজার ৯৬৪ জন কারবারির নাম। এছাড়া আরও কয়েকটি সংস্থার তথ্য মিলিয়ে এই সমন্বিত চিত্র তৈরি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলাকে মাদক কারবারের অন্যতম ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এ এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। কক্সবাজারের পর কুমিল্লাকেও গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সীমান্তপথ ব্যবহার করে গাঁজা ও ফেনসিডিল পাচার হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে কাজ চলছে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ জানান, বিশেষ অভিযান, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যদিও কিছু অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কেবল তালিকা তৈরি বা বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ।



banner close
banner close