শনিবার

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা-অগ্নিসংযোগ, গণপিটুনিতে কথিত পীর নিহত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:০৪

শেয়ার

কুষ্টিয়ায় আস্তানায় হামলা-অগ্নিসংযোগ, গণপিটুনিতে কথিত পীর নিহত
ছবি সংগৃহীত

ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক কথিত পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই পীরের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুর রহমান ওরফে শামীম দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ভণ্ড পীর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার কয়েকজন অনুসারীও আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত সাতজন আহত হলেও তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, শামীম নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী বা ভগবান দাবি করতেন এবং ধর্মীয় বিধান নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করতেন। তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদত অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

এছাড়া অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানের দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াসহ নানা অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো ও ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে ও তার অনুসারীদের মারধর করে।

শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে একসময় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তুলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শামীম রেজার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close