শনিবার

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

তাড়াশ পৌরসভায় উন্নয়নকাজে অনিয়ম, প্রকৌশলী মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৪৯

শেয়ার

তাড়াশ পৌরসভায় উন্নয়নকাজে অনিয়ম, প্রকৌশলী মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ পৌরসভায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রায় তিন বছর ধরে তিনি পৌরসভার কাজে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন।

তাড়াশ গ্রামের নাসির উদ্দিন, জাভেদ আকন্দ, আনছের আলী ও রাহুল সরকারসহ অনেকে জানিয়েছেন, পৌর এলাকায় নির্মিত রাস্তাগুলোর মান নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। কোনো রাস্তা অতিরিক্ত চওড়া, আবার কোনোটি এত সরু যে একটি ভ্যানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই অধিকাংশ রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আসানবাড়ী গ্রামের আলমগীর হোসেন ও শাহালম প্রামানিক বলেন, রাস্তার পাশে স্থাপিত পৌরসভার সীমানা ফলকেও অদক্ষতার পরিচয় মিলেছে। গোল্ডেন স্টিলের লেখাগুলো খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ উঠেছে তাড়াশ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ নিয়ে। এটি হেলিপ্যাড হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সেখানে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের সলিং করা হয়েছে। অথচ পুরনো ইটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার, যা বিক্রি করলে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাওয়া যেত। নতুন করে বালু ফেলে সলিং করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে বলে বাসিন্দারা মনে করেন। এছাড়া পৌর শহরে গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঈদগাহ মাঠেই মালামাল আনলোড করা হয়। ভারী ট্রাক প্রবেশ করলেই সলিং নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, পৌরসভার সব অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মো. মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মুকুল হোসেন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়। তবে কাজে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, পৌরসভার অবকাঠামো নির্মাণ কাজ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় ইতোমধ্যে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের অভিযোগ আগেও উঠেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে পৌরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



banner close
banner close