খান জাহান আলী মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুকুরকে কুমিরে টেনে নেওয়ার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাজারের খাদেম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তাদের দাবি, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয়; বরং আকস্মিকভাবে ঘটে গেছে। মাজারের কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার একটি অসুস্থ কুকুর ঘাট এলাকায় কয়েকজন নারী ও শিশুসহ উপস্থিত লোকজনকে কামড়ায়। পরে নিরাপত্তা প্রহরী মো. ফোরকান হাওলাদার-এর পায়েও কামড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে পানিতে পড়ে যায়।
খাদেমরা জানান, ঘাটের সিঁড়ি পিচ্ছিল হওয়ায় কুকুরটি উপরে উঠতে পারেনি। এ সময় দিঘিতে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও কুকুরটির হাত-পা বাঁধা ছিল—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তারা উল্লেখ করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক দোকানি বলেন, কুকুরটির আচরণ ছিল অস্বাভাবিক এবং তা আগেও কয়েকজনকে কামড়েছিল। ঘাটে কুমির থাকায় কেউ ঝুঁকি নিয়ে কুকুরটিকে উদ্ধার করতে সাহস পাননি। অতীতে একই দিঘিতে মানুষের ওপর কুমিরের আক্রমণের ঘটনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মাজারের পবিত্রতা বজায় রাখতে সঠিক তথ্য তুলে ধরা জরুরি।
এদিকে জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন-কে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কুকুরটির ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
অন্যদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ভাইরাল ভিডিওটি ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে—কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে—মাজার কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি নাকচ করেছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনই জানাবে, আসলে কী ঘটেছিল।
আরও পড়ুন:








