সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে ১৮ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া কিশোরীর নাম মোছা. অকিয়া আফসানা (১৪)। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের দিঘলগ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। গ্রেফতার হওয়া নারী রিয়া খাতুন নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার মহিষমারি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ বাগমারা এলাকায় দর্জির বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন অকিয়া আফসানা। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার বাবা আনোয়ার হোসেন উল্লাপাড়া মডেল থানায় অপহরণের অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ঘটনাটি তদন্তে নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, অকিয়া আফসানার সঙ্গে রিয়া খাতুনের পূর্বপরিচয় ছিল এবং তাদের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তারা একসঙ্গে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে গাজীপুরের গাছা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে উভয়কে উদ্ধার করা হয় এবং রিয়া খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়।
অকিয়া আফসানার বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে রিয়া খাতুনের পরিচয় ছিল। সে বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করত। এটি প্রেমের সম্পর্ক নয়, বরং তারা মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
অন্যদিকে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়া খাতুন পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই তারা একসঙ্গে বাড়ি ছেড়েছেন এবং গাজীপুরে বসবাস করছিলেন।
উল্লাপাড়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রূপকর জানান, “এ ঘটনায় রিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন:








