শুক্রবার

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৪৭

শেয়ার

সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকালে ভারতীয় নাগরিক খাসিয়াদের গুলিতে সালেহ আহমেদ জয়ধর (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি কালাইরাগ (কারবালার টুক) গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে।

বাংলাদেশ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নিহত সালেহ আহমেদ ও তাঁর দুই সঙ্গী—নাজিরগাঁও গ্রামের সোহেল আহমেদ সাবুর ছেলে সুমন মিয়া (২৫) ও কারবালার টুক গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মাসুম আহম্মদ (২০)—অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় এক কিলোমিটার প্রবেশ করেন। তারা চংকেটের বাগান ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় খাসিয়াদের সুপারি বাগানে ঢোকে।

বিজিবি আরও জানায়, ওই সময় খাসিয়ারা সুপারি চোর সন্দেহে ছড়রা বন্দুক থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সালেহ আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তাঁর সঙ্গীরা লাশ উদ্ধার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসে।

বিজিবির বরাতে বলা হয়, তিনজনই ইতিপূর্বে চোরাচালানি মালামাল পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

ঘটনাস্থলে থাকা সুমন মিয়া ও মাসুম আহম্মদ জানান, তারা সুপারি সংগ্রহ করতে ভারতীয় অংশে গিয়েছিলেন। খাসিয়ারা কোনো সতর্ক সংকেত না দিয়েই সরাসরি গুলি চালায়। সালেহ প্রথম গুলিতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, খাসিয়ারা অপ্রয়োজনীয় গুলি চালিয়ে তাদের সন্তানকে হত্যা করেছে। তারা এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ভারতে গিয়ে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। লাশ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করছে।’

বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি বর্ডার গার্ড লাইজনের মাধ্যমে ভারতীয় বিএসএফ-কে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

এর আগে গত ১ এপ্রিল কোম্পানীগঞ্জের উৎমা সীমান্ত এলাকার ভারতীয় অংশে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নিখোঁজ হন। তার বন্ধু আবু বকর জানান, সাদ্দামকে কোমর ও পায়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এখনো তারলাশের সন্ধান মেলেনি।



banner close
banner close